Sunday, April 3, 2016

বিনা অপারেশনে পাইলস চিকিৎসা

*বিনা অপারেশনে পাইলস চিকিৎসা**
ডা. একেএম ফজলুল হক
বৃহদান্ত্র পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ
সহযোগী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ
...........................
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে কয়েক আউন্স ভুসির অভাবে আজ ইউরোপের ইতিহাস অন্যভাবে রচিত হয়েছে। কারণ ওয়াটারলু যুদ্ধে নেপোলিয়ন পাইলসে আক্রান্ত থাকায় সঠিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হননি। খাদ্যে আঁশ জাতীয় খাবার কম থাকার কারণে নেপোলিয়ন তীব্র পাইলস সমস্যায় ভুগছিলেন বলে উক্তি করা হয়েছে...চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে কয়েক আউন্স ভুসির অভাবে আজ ইউরোপের ইতিহাস অন্যভাবে রচিত হয়েছে। কারণ ওয়াটারলু যুদ্ধে নেপোলিয়ন পাইলসে আক্রান্ত থাকায় সঠিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হননি। খাদ্যে আঁশ জাতীয় খাবার কম থাকার কারণে নেপোলিয়ন তীব্র পাইলস সমস্যায় ভুগছিলেন বলে উক্তি করা হয়েছে। একজন রোগী পাইলস বলতে বোঝেন মলদ্বারের চুলকানি, চাকা হওয়া, ব্যথা, ফুলে যাওয়া, রক্তপড়া, মলদ্বার ঝুলে পড়া ইত্যাদি। পাইলসের শিরাগুলো সাধারণভাবে সবার শরীরেই বিদ্যমান। পাইলসের উপসর্গগুলো পশ্চিমা সভ্যতায় খুবই সাধারণ। সমস্যাটি যে কোনো বয়সে যে কোনো লিঙ্গেই হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে .% লোকের পাইলসের সমস্যা রয়েছে। পঞ্চাশোর্ধ্ব লোকদের ৫০% কোনো না কোনো সময় পাইলসের উপসর্গ অনুভব করেন। উচ্চবিত্ত লোকদের এই রোগটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।কারণ পাইলস কোনো বিশেষ একটি কারণের জন্য হয় না। অনেকগুলো কারণ জন্য দায়ী। যার অন্যতম হচ্ছে উত্তরাধিকার, গঠনগত বৈশিষ্ট্য, পুষ্টি, পেশা, আবহাওয়া, মানসিক সমস্যা, বার্ধক্য, হরমোনের পরিবর্তন, খাদ্য ওষুধ, সংক্রমণ, অন্তঃসত্ত্বা, ব্যায়াম, কাশি, মলত্যাগের শক্তিপ্রয়োগ, বমি, আঁটসাঁটো কাপড় পরা কোষ্ঠকাঠিন্য। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহের গঠনকে ধরে রাখার কলার ক্ষয় হতে থাকে যার কারণে মলদ্বারের ভেতরের কুশনটি ঢিলা হয়ে ঝুলে পড়তে থাকে। এমতাবস্থায় শিরাগুলো স্ফীত হতে থাকে এবং রক্তপাত হতে থাকে। উপসর্গ লক্ষণসমূহ রোগে রোগীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মলদ্বারে রক্ত পড়ার অভিযোগ করেন। এটি সাধারণত মলত্যাগের সময় অথবা তার পরে হয়ে থাকে। মলত্যাগের শক্তি প্রয়োগ করা অথবা বারবার মলত্যাগ করলে রক্ত যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এটা কমোডে বা টয়লেট পেপারে দেখা যেতে পারে। অতিরিক্ত রক্ত যাওয়ার কারণে তীব্র রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। পাইলসে সাধারণত ব্যথা হয় না। কিন্তু যদি থ্রম্বসিস (রক্ত জমাট বাঁধা) ঘা অথবা পচন ধরে তখন ব্যথা হতে পারে। মলদ্বারে ব্যথার প্রধান কারণ এনালফিশার। মলদ্বারের ভেতর থেকে মাংসপিন্ড ঝুলে পড়া বা গেজ হওয়া একটি সাধারণ ঘটনা। এটি হলে কখনও কখনও হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হয়। এমন হতে পারে যে এটা বাইরে ঝুলে আছে এবং কখনও ভেতরে যায় না। মাঝে মধ্যে মলদ্বারে চুলকানি হতে পারে। পাইলসের জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না। কিন্তু ঘন ঘন পায়খানা হলে অথবা থ্রম্বসিস হলে অনেকে রক্তপড়া বা ব্যথার জন্য টয়লেটে যেতে চায় না যার জন্য আস্তে আস্তে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা মলদ্বারে রক্ত পড়ার অনেক কারণ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে পায়ুপথের ক্যান্সার। সিগময়ডস্কপি মলদ্বার, পায়ুপথ বৃহদান্ত্রের ভেতরে যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করতে হয়। প্রকটস্কপি যন্ত্র দিয়ে মলদ্বার পায়ুপথের নিচের দিক পরীক্ষা করতে হয়। রোগী যদি ৫০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে হয় এবং যদি পরিবারে কেউ বৃহদান্ত্র ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে বেরিয়াম এনেমা বা কোলনস্কপি করা উচিত।

চিকিৎসা

 প্রতিরোধ: কিছু অভ্যাস এবং উপদেশ পালন করলে পাইলস প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আঁশ জাতীয় খাবার যেমন শাকসব্জি, ইসপগুলের ভুসি ব্যাপারে উপকারী। আফ্রিকায় কিছু সম্প্রদায় আছে যারা মূলত শাকসব্জি ফলমূলের ওপর নির্ভর করে। এদের সাধারণত পাইলস দেখা যায় না। টয়লেটে অনেকক্ষণ বসে বই পড়া বা অহেতুক দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা উচিত নয়। কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ডায়রিয়ার সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা করা উচিত। গরু এবং খাসির মাংস কম খাওয়া উচিত। ডায়রিয়া বা আমাশয়ের চিকিৎসা যথাসময়ে করিয়ে নেয়া উচিত। পাইলসের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন চিকিৎসা রয়েছে। যদি কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় তার চিকিৎসা করতে হবে যেমন ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য। ক্যান্সার অথবা বৃহদান্ত্রের অন্য কোনো রোগ আছে কিনা অবশ্যই দেখে নিতে হবে। আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে বিনা অপারেশনে ৮০-৯০% পাইলসে চিকিৎসা পদ্ধতিতে ছোট যন্ত্রের সাহায্যে পাইলসে চিকিৎসা করলে সপ্তাহ খানেকের ভেতর পাইলসের মাংসপিন্ডটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে পড়ে যায়। চিকিৎসার সময় বা পরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনোরূপ ব্যথা হয় না। কোনো অজ্ঞান বা অবশ করার প্রয়োজন নেই। প্রখ্যাত আমেরিকান সার্জন ডা. মারভিন এল করমান ডা. ডিএস স্টিনবার্গ পদ্ধতিতে চিকিৎসা করে বলেন, পদ্ধতিটি আবিষকারের ফলে ৮০-৯০% রোগী বিনা অপারেশনে ভালো হয়েছে। চিকিৎসায় ব্যয় খুবই কম। পদ্ধতি ব্যবহারের পূর্বে এনেমা দিলে ভালো হয়। পায়ুপথের ভেতর যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করে নিতে হয়। যেহেতু আমাদের শরীরে প্রধান তিনটি পাইলস আছে অতএব সর্বোচ্চ তিনবার এরূপ চিকিৎসা লাগতে পারে। দুবার চিকিৎসার মধ্যে সাধারণত - সপ্তাহ ব্যবধান থাকতে হয়। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি অনেক রোগী চিকিৎসায় সম্পূর্ণ ভালো হয়েছেন। অপারেশন সাধারণত ১০/২০% রোগীর ক্ষেত্রে অপারেশন দরকার, যখন মলদ্বারের গঠন প্রণালী ভীষণভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায় যেমন বহির্স্থিত পাইলস, ঘা, পচন ধরা, বিসতৃত থ্রম্বোসিস, মলদ্বারের ভেতরের বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মাংসপিন্ড অথবা সঙ্গে ফিসার থাকলে। অজ্ঞান না করে কোমরে ইনজেকশন দিয়ে রোগী সজাগ অবস্থায় অপারেশন করা যায়। আমি সাধারণত বিকেলে ভর্তি করে এনেমা দিয়ে সকালে অপারেশন করে পরের দিন বা তার পরের দিন ছুটি দেই। কোনো এন্টিবায়োটিক, স্যালাইন অথবা প্যাক দেয়ার প্রয়োজন নেই। অপারেশনের ঘন্টা পর স্বাভাবিক খাবার দেয়া উচিত যাতে পরদিন রোগী স্বাভাবিক মলত্যাগ করতে পারে। দিনে বার নিতম্ব লবণসহ গরম পানিতে ডুবিয়ে শেক দিতে হয় ১০ মিনিট ধরে। ব্যথা নাশক ওষুধ মলম ব্যবহার করা যেতে পারে।

ওষুধ পথ্যের সাহায্যে পাইলস চিকিৎসা

মানুষের রোগ ব্যাধির মধ্যে মলদ্বারের রোগেই সবচেয়ে বেশি স্ব-চিকিৎসা এবং হাতুড়ে চিকিৎসা হয়। কিছুটা ভয় এবং বিব্রতকর অনুভূতির জন্য জাতীয় রোগ হলে রোগীরা ডাক্তার দেখাতে চান না। রোগীরা নিজে নিজে অথবা সস্তায় পাওয়া হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে যান বেশি। বিভিন্ন কুসংস্কার এবং মলদ্বারের সব রোগই পাইলস এই ভ্রান্ত ধারণার কারণে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরী করেন যা কখনও কখনও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। হয় রোগটি শুরু থেকেই ক্যান্সার অথবা অবহেলার কারণে ইতোমধ্যে সেখানে ক্যান্সার হয়ে গেছে। পাইলসের উপসর্গের মধ্যে রয়েছে টয়লেটে রক্ত যাওয়া, মাংসপিন্ড ঝুলে পড়া ব্যথা হওয়া। পাইলস যখন বাইরে ঝুলে পড়ে তখন শুধুমাত্র ওষুদের মাধ্যমে এর চিকিৎসা সম্ভব নয়। যদি মাংস পিন্ডটি ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় তাহলে বিনা অপারেশনে রিং লাইগেশন পদ্ধতিতে এর চিকিৎসা সম্ভব। আর যদি মাংসপিন্ডটি ভেতরে ঢুকানো না যায় তাহলে অপারেশন করতে হবে। আবার পাইলসে ব্যথা হলে তার কারণ হচ্ছে থ্রম্বসিস, পঁচনধরা (গ্যাংথ্রিন) বা ঘা হয়ে যাওয়া। এক্ষেত্রে অপারেশনই যথাযথ চিকিৎসা। যখন টয়লেটে টাটকা লাল রক্ত যায় এবং বাইরে কোনো বড় ধরনের মাংপপিন্ড ঝুলে না থাকে সেক্ষেত্রে ওষুধ পথ্যের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যেতে পারে। তবে চিকিৎসককে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে কি কারণে রক্ত যাচ্ছে। বিশেষ করে পায়ুপথের ভেতর কোনোরূপ ক্যান্সার আছে কি না। যে রোগীরা পাইলসে ভোগেন তাদের সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া জাতীয় সমস্যা থাকে। অনেক রোগী আছেন যাদের পেটে গ্যাস হয়। পায়খানার সাথে মিউকাস বা আম যায়। পায়খানা করার পর মনে হয় ক্লিয়ার হয়নি। দুধ, পোলাউ, ঝাল, গরুর মাংস ইত্যাদি খেলে হজমে গোলমাল হয়। টয়লেটে অনেকক্ষণ বসে থাকতে হয়। অনেকে মলদ্বারের ভেতর আঙ্গুল দিয়ে মলত্যাগ করেন। রোগীরা সমস্যাগুলোকে গ্যাস্ট্রিক বা ক্রনিক আমাশয় হিসেবে মনে করেন। চিকিৎসা পরিভাষায় একে আমরা বলিইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রাম বাআইবিএস জাতীয় রোগীদের দুধ দুগ্ধজাত খাবার, পোলাউ, ঝাল, বিরিয়ানি খাওয়া নিষেধ। 

 উপদেশ

পাইলসে যে দুটি রোগ সবচেয়ে বেশি সমস্যা করে তা হলো কোষ্ঠকাঠিন্য ডায়রিয়া। বেশির ভাগ রোগীর খাদ্যাভ্যাসে ত্রুটি থাকে এবং মলদ্বার ভালভাবে পরিষ্কার রাখেন না। যদি রোগীর নরম পায়খানা, চুলকানি সামান্য রক্ত যায় তাহলে তাকে আঁশ জাতীয় খাবার দেয়া যেতে পারে। ডায়রিয়া হয় এমন খাবার পরিহার করতে হবে। মলত্যাগের পর মলদ্বার ভালভাবে পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মলত্যাগের কু-অভ্যাস ত্যাগ পাইলস রোগীদের তিনটি কু-অভ্যাস দেখা যায়। . যেভাবেই হোক প্রতিদিন অন্তত একবার পায়খানা করতে হবেই। এটি না হলে তারা সারাদিন শারীরিক মানসিক টেনশনে ভোগেন। . সকাল বেলা প্রথমবার যখন মলত্যাগের বেগ হয় তখন তাতে সাড়া দেন না। . পায়খানা ক্লিয়ার হযনি ভেবে টয়লেটে অনেকক্ষণ বসে থাকেন এবং কোথ দেন যেন রেকটাম থেকে পায়খানা সম্পূর্ণরূপে বের হয়ে যায়। তাদের বিশ্বাস এই যে যদি সামান্য মল ভেতরে থেকে যায় তাহলে সারাদিন অস্বস্তিতে কাটাতে হবে। খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন আমরা প্রচুর রোগী পাই বিশেষ করে শিশুদের সঠিক খাদ্যাভ্যাসের অভাবে পায়ুপথের বিভিন্ন রোগ হয়। পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এমন খাবার খাওয়া উচিত। যেমন শাক, সবজি, সালাদ, ফল, ইসুপগুলোর ভূষি, গমের ভূষি ইত্যাদি। দৈনিক পরিমিত পানীয় খেতে হবে। একজন পূর্ণ বয়স্ক লোকের জন্য - গ্লাস পানি প্রতিদিন পান করতে হবে। অনেক রোগীকে এসব উপদেশ দিলে তারা দিন পরে ভুলে যান অথবা আবার চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার দিন আগে আবার খান যাতে তাকে বলতে পারেন যে হ্যাঁ, আমি ভূষি বা সালাদ খেয়েছি। ইসুপগুলের ভূষি দোকানে পাওয়া যায় আবার ওষুধ কোম্পানিও বানায়। এছাড়া আঁশ হিসেবে মিথাইল সেলুলেজ ট্যাবলেট পাওয়া যায়। বিভিন্ন বিজ্ঞানী আঁশ জাতীয় খাবারের কার্যকারিতা সম্বন্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ডাঃ ওয়েবস্টার (ইংল্যান্ড) ডাঃ মোয়েসগার্ড (ডেনমার্ক) পাইলসের ওষুধ পাইলসের রক্ত বন্ধের জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার হয়ে আসছে যেমন ট্রানেক্স ক্যাপসুল ১টি করে বার দিন অথবা এনারক্সিল ১টি করে তিনবার ৫দিন। সর্বশেষ যে ওষুধটি বাজারে এসেছে তার নাম ফ্লাভোনয়িক এসিড। এটির কার্যকারিতা নিয়ে এখনও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চলছে। প্রাথমিক পাইলসে এটি ভাল কাজ দেবে বলে আশা করা যায়। এটির রোগীদের প্রতি অনুরোধ দয়া করে কোনও চিকিৎসাই নিজে নিজে করবেন না। মলদ্বারে ব্যবহৃত ওষুধ পাইলসের সমস্যা এত বেশি যে বেশিরভাগ রোগীই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বা মলম লাগিয়ে থাকেন। এমনকি বাসার জন্য কারো কোনো কারণে একটি অয়েন্টমেন্ট দেয়া হয়েছিল সেটিই নিজে নিজে লাগাতে থাকেন। বিভিন্ন ধরনের অয়েন্টমেন্ট ক্রীম, সাপোজিটরী, জেল বাজারে পাওয়া যায়। এসব ওষুদের ভেতর বিভিন্ন ধরনের ওষুদের সংমিশ্রণ থাকে যেমন অবশকারী ওষুদ, স্টেরয়েড এন্টিসেপ্টিক। এসব ওষুদের ভেতর অবশকারী ওষুধটি ব্যথা চুলকানি কমাতে পারে কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে চামড়ায় এলার্জি হতে পারে। লোকাল এনেন্থেটিক স্টেরয়েড ওষুদের সংমিশ্রণ মলদ্বারের কষ্ট কমাতে কোনো বাড়তি ভূমিকা রাখে না। আমাদের দেশে যে সমস্ত অয়েন্টমেন্ট পাওয়া যায় যেমন ইরিয়ান, এনুস্ট্যাট, নুপারকেইনাল হেডেনসা এবং রিলিচ রেকটাল অয়েন্টমেন্ট। এগুলো মলদ্বারের সামান্য ভেতরে দিনে - বার লাগাতে হয় -১৪ দিন।



অর্শ বা পাইলস রোগের কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ হোমিওপ্যাথিক 


তীব্র বেদনা দায়ক এবং জটিল রোগগুলোর মধ্যে  অর্শ বা পাইলস হলো একটি। এটি মানুষের মলদ্বারের রোগ। রোগে মলদ্বারের ভেতরে বা বাইরে, চারপাশে বা একপাশে, একটি বা একাধিক, গোলাকৃতি বা সুচাল গুটিকা দেখা দেয়। গুটিকাগুলোকে 'বলি'বা 'গেজ' বলা হয়। পায়খানা করার সময় বলিগুলো থেকে অভ্যন্তরীণ সমস্যার অনুপাতে কারো অধিক পরিমাণে, কারো স্বল্প পরিমাণে রক্ত যায়। আবার অনেকের রক্ত যায়ই না।

সৃষ্টির ইতিবৃত্ত :-

প্রতিনিয়ত আবহাওয়া খাদ্যাদি থেকে নানা রকম বিষ রোগ জীবাণু আমাদের দেহের ভেতরে প্রবেশ করে। শক্তিশালী জীবনীশক্তি বিষসমূহের কিছু দেহাভ্যন্তরে ধ্বংস করে কিছু পায়খানা প্রস্রাব ঘর্ম ইত্যাদি স্বাভাবিক স্রাবের মাধ্যমে বাইরে বের করে দিয়ে দেহকে সুস্থ রাখে। এমন কিছু জীবাণু আছে যেগুলোকে জীবনীশক্তি ধ্বংস করতে পারে না এবং নিষ্কাশিত করাও জীবনীশক্তির সামর্থ্য হয় না। সে জীবাণুগুলো দেহের মধ্যকার ত্রিদোষ (সোরা, সিফিলিস, সাইকোসিস)-এর যে কোনো দোষ বা দোষসমূহের দ্বারা প্রবল শক্তি অর্জন করে এবং মারাত্মক ব্যধির সৃষ্টি করে জীবনীশক্তির পতন ঘটানোর চেষ্টা করে। অবস্থায় জীবনীশক্তি যে কোনো স্রাবকারী নতুন পথের সৃষ্টি করে ওই প্রবল বিষ বা বিষবাষ্প বের করে যন্ত্রটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করে।
অর্শের কারণ :-
পুরনো কোষ্ঠকাঠিন্য।
লিভার সিরোসিস, যকৃতে অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চয় অত্যধিক মস্তিষ্কের কাজ।
মূত্রাশয়ের গোলযোগ, প্রোস্টেট ক্যান্সার, গর্ভাবস্থায় মহিলাদের জরায়ুতে চাপ পড়লে।
আকৃতি অনুযায়ী প্রকারভেদ :-
ছোলার মতো,
আঙুরের মতো,
খেজুর গাছের শিকড়ের মতো,
রেশন গাছের গোটার মতো,
খেজুরের মতো,
ডুমুরের মতো।
শিরা স্ফীতির ওপর প্রকারভেদ যথা :-
. মলদ্বারের অভ্যন্তরে অর্শ : - ইঞ্চি ভেতরের দিকে শিরার স্ফীতি হয়ে বলির সৃষ্টি হয়। একে আবার ভাগে ভাগ করা যায়।
প্রথমতঃ মলদ্বারের ভেতর থেকে ব্যথাহীন রক্তপাত হয়। কিন্তু অর্শের বলি মলদ্বারের বাইরে বের হয়ে আসে না।
দ্বিতীয়তঃ বলি মলদ্বারের বাইরে বের হয়ে আসে, তবে মলত্যাগের পর নিজেই ভেতরে চলে যায়।
তৃতীয়তঃ বলিগুলো বাইরে বের হয়ে আসে এবং হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে না দিলে বাইরেই থেকে যায়।
. মলদ্বারের বাইরে অর্শ : মলদ্বারের বাইরে বলির সৃষ্টি হয় এবং হাত দিয়ে তা অনুভব করা যায় এবং
. মিশ্র অর্শ : এক্ষেত্রে মলদ্বারের ভেতরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই অর্শের বলি পাওয়া যায়।

লক্ষণসমূহ :-

পায়খানা করার সময় অত্যধিক বা অল্প পরিমাণে রক্ত যেতে পারে।
গুহ্য দ্বারে জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যায়।
টাটানি যন্ত্রণা।
কাঁটাবিদ্ধ অনুভূতি।
মাথা ধরা মাথা ভার বোধ।
উরুদেশ, বক্ষ, নাভির চারপাশে ব্যথা মলদ্বারে ভার বোধ।
কোমর ধরা কোষ্ঠবদ্ধতা।
অর্শ রোগে আক্রান্তদের করণীয় :-
নিয়মিত পায়খানা করা।
পেটে হজম হতে চায় না এমন খাদ্য বর্জন করা।
চিকিৎসকের পরামর্শমতো বিশ্রাম নেয়া।
হাতুরে ডাক্তার বা কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসা না করা।
প্রতিরোধের উপায় :-
কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয় সে দিকে খেয়াল রাখা।
নিয়মিত ঘুমানো।
পরিমাণ মতো পানি পান করা।
অতিরিক্ত পরিশ্রম না করা।
তরলও সহজপাচ্য খাদ্য গ্রহণ।
অধিক মশলা জাতীয় খাদ্য পরিহার করা।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা :-
হোমিওপ্যাথি রোগ নিরাময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। পদ্ধতিতে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র সদৃশ উপসর্গের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হয়। এটি উপসর্গ জটিলতা মুছে ফেলে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য অবস্থায় রোগীর ফিরে যাবার একমাত্র উপায়। সদৃশবিধানের লক্ষ্য শুধু অর্শ চিকিত্সা নয়, তার অন্তর্নিহিত কারণ স্বতন্ত্র প্রবণতা মোকাবেলায়ও সহায়তা করে। স্বতন্ত্র ঔষধ নির্বাচন এবং চিকিত্সার জন্য, রোগীকে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
******   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *******
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫ 

পাইলস বা অর্শ্ব রোগ নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক ওষধের প্রয়োগ সংকেত নিয়ে আজকের আলোচনা, লিখেছেন - ডা. প্রধীর রঞ্জন নাথ। যে সকল কারণে মলদ্বারের নিকটবর্তী শিরা সমূহে রক্ত চলা-চলের গতিরোধ হয়ে রক্ত সঞ্চিতির ফলে স্ফীতি এবং বড় হয় তাকে পাইলস বা অর্শ বলে। কখনও একটা কখনও বা একাদিক থোকা থোকা আঙ্গুরের ন্যায় দেখতে পাওয়া যায়। অর্শের বলি মলদ্বারের বাইরে থাকলে তাকে বর্হিবলি এবং অভ্যন্তরে থাকলে তাকে অন্তর্বলি বলে।
মানুষের রোগব্যাধির মধ্যে মলদ্বারের রোগই সবচেয়ে বেশি স্বচিকিৎসা এবং হাতুড়ে চিকিৎসা হয়। কিছুটা ভয় বিব্রতকর অনুভূতির জন্য জাতীয় রোগ হলে রোগীরা ডাক্তার দেখাতে চায় না। রোগীরা নিজে নিজে অথবা সস্তায় পাওয়া হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে যান বেশি। বিভিন্ন কুসংস্কার এবং মলদ্বারের সব রোগই পাইলস ভ্রান্ত ধারনার কারনে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন,যা কখনো কখনো ভয়াবহ পরিনতি ডেকে আনে।

পাইলসের প্রকারভেদ :-
বলিভেদে পাইলস দুই প্রকার। যথা- বহির্বলি অন্তর্বলি। আবার স্রাব সম্বন্ধীয় পাইলস বা অর্শকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
যে অর্শ থেকে প্রবল রক্ত ধারা ছুটে তাকে রক্তস্রাবী পাইলস বলে।
যে অর্শে রক্ত স্রাব থাকে না কিন্তু জ্বালা যন্ত্রনা, সুঁচ ফোটান ব্যথা ইত্যাদি কষ্টদায়ক উপসংগ থাকে তাকে অস্রাবী পাইলস বলে।
যে অর্শে কেবল মাত্র আম নির্গত হয় তাকে আম শ্রাবী পাইলস বলে যা বর্ষাকালেও বসন্তকালে প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।
যে রোগীরা পাইলসে ভোগেন তাদের সাধারনত কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া জাতীয় সমস্যা থাকে। অনেক রোগী আছেন যাদের পেটে গ্যাস হয়। পায়খানার সঙ্গে মিউকাস বা আম যায়। পায়খানা করার পর মনে হয় ক্লিয়ার হয়নি। দুধ, পোলাও, ঝাল, গরু বা খাসির মাংস ইত্যাদি খেলে হজমে গোলমাল হয়। টয়লেটে অনেকক্ষণ বসে থাকতে হয়। অনেকে মলদ্বারের ভেতর আঙুল দিয়ে মলত্যাগ করেন। রোগীরা সমস্যাগুলোকে গ্যাস্ট্রিক বা ক্রনিক আমাশয় হিসেবে মনে করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে আমরা বলি ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ডোম বা আইবিএস। জাতীয় রোগীদের দুধ দুগ্ধজাত খাবার, পোলাও, ঝাল, বিরিয়ানি খাওয়া নিষেধ।

পাইলসের উৎপত্তি :-
কোষ্ঠবদ্ধতা, উৎকট উদরাময়, যকৃতের বিবৃদ্ধি, অতিরিক্ত মদ্য কিংবা মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার, অলস জীবন যাপন, স্ত্রীলোকের জরায়ুর বিবৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে বস্তি গহ্বরের শিরা সকলে চাপা পড়ে। ফলে রক্তের গতিরুদ্ধ হওয়ার কারণে মলদ্বারে নিকটবর্তী শিরা সকল রক্ত সঞ্চিত হয়ে স্ফীত হয়। এভাবে অর্শের জন্ম হয়। মোট কথা বস্তি গহ্বরের শৈরিক রক্তস্রোত বাধা প্রাপ্ত হলেই পাইলস বা অর্শের উৎপত্তি ঘটে।

এই রোগের লক্ষনাদি :-

মলের সঙ্গে রক্তের ছিটে দেখা যায় অথবা সময় সময় এক বারকার পাইখানাতেই প্রায় এক ছটাক হতে আধ পোয়া পর্যন্ত রক্ত বাহির হয়। মল ত্যাগকালে রোগী বিষম কষ্ট পান এবং সরলাস্ত্র মধ্যে জ্বালা, দপ্দপানি চিড়িক মারা মতন যাতনা ভোগ করেন এবং সময় বিশেষে মল নির্গত হয়ে যাবার পরও অনেকক্ষন পর্যন্ত উক্ত যাতনাদি অবস্থান করে। যখন অর্শের বলীগুলো প্রদাহিত হয় অথবা গুহ্যদ্বারের পেশী বা স্ফিংটার দ্বারা নিষ্পেষিত হয়, তখন অতিশয় ক্লেশ বোধ হতে থাকে এবং উপর্যুপরি দুই তিন দিন পর্যন্ত রোগী বিছানা হতে উঠে কোন কাজকর্ম করতে পারেন না। প্রায় সকল সময়েই অর্শ্বরোগের সাথীরূপে কোষ্টবদ্ধতা প্রকাশ পায়। এই রোগ কতকটা পূর্বোক্ত "মেক্যানিক্যাল অবষ্ট্রাকসান" এবং কতকটা মলত্যাগকালীন যন্ত্রনা জন্য আনীত হয়। অর্শরোগ নিবন্ধন, আলস্য বোধ, রুক্ষ্ম মেজাজ, শিরপীড়া, মূর্চ্ছাভাব এবং পরবর্তী অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তস্রাবহেতু রক্তাল্পতা মাথা ঘোরা, উপসর্গ রূপ দেখা দেয়।

খাদ্যাভাসের পরিবর্তন :-
আমরা প্রচুর রোগী পাই। যাদের সঠিক খাদ্যাভাসের অভাবে পায়ুপথের বিভিন্ন রোগ হয়। পায়খানার পরিমান বাড়ে এমন খাবার খাওয়া উচিত। যেমন- শাক, সবজি,সালাদ, ফল, ইসুপগুলের ভূষি, গমের ভূষি ইত্যাদি। দৈনিক পরিমিত পানীয় খেতে হবে। একজন পূর্ন বয়স্ক লোকের জন্য - গ্লাস পানি প্রতিদিন পান করতে হবে।

হোমিওপ্যাথিক প্রতিবিধান :-
পাইলস বা অর্শে হোমিওপ্যাথিক ঔষধের কার্যকারিতা বহু প্রাচীনকাল থেকেই সন্দেহাতীতভাবে দৃঢ়তার সাথে প্রমানিত হয়ে আসছে। কেন্ট রেপার্টরীর প্রয়োগ-সংকেতও পীড়ায় প্রনিধানযোগ্য। অর্শে বহুল প্রচলিত ওষধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিশেু প্রদত্ত হল।
শ্রম বিমুখতা ভোগ বিলাসিতাজনিত অর্শে নাক্স ভমিকা, সালফার, পডোফাইলাম, পালসেটিলা বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে,
কোষ্ঠকাঠিন্য হেতু অর্শে ইস্কিউলাস, নাক্স, সালফার,কলিনসোনিয়া কার্বোভেজ
গর্ভাবস্থায় অর্শে- কলিনসোনিয়া, ইস্কুলাস, নাক্স ভমিকা,হ্যামামেলিস, অ্যাসিড মিউর, অ্যালো,
রক্তস্রাবী অর্শে- কলিনসোনিয়া, ইগ্লোসিয়া, ্যাটানহিয়া,হ্যামামেলিস, পিওনিয়া, এব্রোটেনাম, সালফার, ক্যাপসিকাম, ইস্কুইলাস-গ্ল্যাবরা, এসিড নাইট্রিক,তমন কার্ব।
অস্রাবী অর্শে- আর্সেনিক এল্ব, একোনাইট ন্যাপ, ইস্কুইলাস হিপ, এসিড মিউর, এমন মিউর,প্লান্টেগো, ক্যালিকার্ব।
আমস্রাবী অর্শে- এন্টিম ক্রুড, হিসার সালফ, লাইকোপডিয়াম সফলতার সাথে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
বি. দ্র.  চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষধ সেবন উচিত নয়।

অর্শ বা পাইলস:কারণ,লক্ষণ,করণীয়,খাদ্যাভ্যাস,চিকিৎসা


অর্শ বা পাইলস কি?
মলাশয়ের নিম্নাংশ বা মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে গেলে সেগুলোকে অর্শ বা পাইলস বলে। এই অর্শ মলদ্বারের অভ্যন্তরেও হতে পারে আবার বাইরেও হতে পারে।
অর্শ বা পাইলস কেন হয় (অর্শের কারণসমূহ):
অর্শের সঠিক কারণ জানা না গেলেও নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্শ হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেঃ
. দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
. শাকসব্জী অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার এবং পানি কম খাওয়া
. শরীরের অতিরিক্ত ওজন
. গর্ভাবস্থা
. লিভার সিরোসিস
. মল ত্যাগে বেশী চাপ দেয়া
. অতিরিক্ত মাত্রায় লেকজেটিভ (মল নরমকারক ওষুধ)ব্যবহার করা বা এনেমা (শক্ত মল বের করার জন্য বিশেষ
তরল মিশ্রণ ব্যবহার করা) গ্রহণ করা
. টয়লেটে বেশী সময় ব্যয় করা
. বৃদ্ধ বয়স
১০. পরিবারে কারও পাইলস থাকা
১১. ভার উত্তোলন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা ইত্যাদি।
অর্শ বা পাইলস কিভাবে বুঝব (অর্শের লক্ষণসমূহ):
i) মলদ্বারের অভ্যন্তরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারেঃ
. পায়খানার সময় ব্যথাহীন রক্তপাত হওয়া
. মলদ্বারের ফোলা বাইরে বের হয়ে আসতে পারে, নাও পারে। যদি বের হয় তবে তা নিজেই ভেতরে চলে যায় অথবা হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। কখনও কখনও এমনও হতে পারে যে, বাইরে বের হওয়ার পর তা আর ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না বা ভেতরে প্রবেশ করানো গেলেও তা আবার বের হয়ে আসে
. মলদ্বারে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা বা চুলকানি হওয়া
. কোন কোন ক্ষেত্রে মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।
ii) মলদ্বারের বাইরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারেঃ
. মলদ্বারের বাইরে ফুলে যাওয়া যা হাত দিয়ে স্পর্শ অনুভব করা যায়
. কখনও কখনও রক্তপাত বা মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।
কি করব (অর্শ বা পাইলস রোগে করণীয়):
. কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত মলত্যাগ করা
. পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসব্জী অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং পানি(প্রতিদিন -১০ গ্লাস) পান করা
. সহনীয় মাত্রার অধিক পরিশ্রম না করা
. প্রতিদিন - ঘন্টা ঘুমানো
. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা
. টয়লেটে অধিক সময় ব্যয় না করা
. সহজে হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ করা
. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া লেকজেটিভ বেশী গ্রহণ না করা
. মল ত্যাগে বেশী চাপ না দেয়া
১০. দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া থাকলে তার চিকিৎসা নেয়া।
কি খাব (অর্শ বা পাইলস রোগে গ্রহণীয় কিছু খাবার):
শাকসবজি, ফলমূল, সব ধরণের ডাল, সালাদ, দধি, পনির, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, লেবু জাতীয় টক ফল, পাকা পেপে, বেল, আপেল, কমলা, খেজুর, ডিম, মাছ, মুরগীর মাংস, ভূসিযুক্ত (ঢেঁকি ছাঁটা) চাল আটা ইত্যাদি।
কি খাব না (অর্শ বা পাইলস রোগে বর্জনীয় কিছু খাবার):
খোসাহীন শস্য, গরু, খাসি অন্যান্য চর্বিযুক্ত খাবার, মসৃণ চাল, কলে ছাঁটা আটা, ময়দা, চা, কফি, চীজ, মাখন, চকোলেট, আইসক্রীম, কোমল পানীয়, সব ধরণের ভাজা খাবার যেমনঃ পরোটা, লুচি, চিপস ইত্যাদি।

অর্শ বা পাইলস রোগের চিকিৎসাঃ
. মলদ্বারের বাইরের অর্শ যা হাতে অনুভব করা যায় তবে ব্যথা বা রক্তপাত হয় নাঃ
Diosmin 450mg Heperidin 50mg এর কম্বিনেশনে তৈরি ট্যাবলেট (যা বাজারে Normanal, Hemorif, Daflon, Diohes ইত্যাদি নামে পাওয়া যায়)চিকিৎসকের পরামর্শ মতো খেতে হয়।
. মলদ্বারের ভিতরের বা বাইরের অর্শে ব্যথা হলে (রক্তপাত সহ বা ব্যতীত):
i) নং বর্ণিত ওষুধ
ii) Sitz Bath ( সে.মি. উচ্চতার কুসুম গরম পানিতে ১৫ মিনিট করে বসতে হবে- প্রতিদিন প্রয়োজন অনুসারে - বার
iii) Over-the-counter hemorrhoid ointment বা suppository দিনে - বার (বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে)ব্যবহার করা, যেমনঃ
Cinchocaine Hydrochloride, Hydrocortisone, Neomycin Sulphate Esculin Sesquihydrate এর কম্বিনেশনে তৈরি Ointment (বাজারে Anorel, Anustat ইত্যাদি নামে পাওয়া যায়)বা Suppository (বাজারে Cinoplus নামে পাওয়া যায়), অথবা
Cinchocaine HCl 5mg, Hydrocortisone 5mg, Framycetin Sulphate 10mg Esculin10mg এর কম্বিনেশনে তৈরি Ointment বা Suppository (বাজারে Erian নামে পাওয়া যায়)
iv) ট্যাবলেট Paracetamol ১টি করে দিনে / বার
v) বরফের টুকরা গামছা বা অন্য কোন কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে ফোলা জায়গায় লাগালেও ব্যথা উপশম হয়।
. মলদ্বারের ভিতরের অর্শ হতে ব্যথাহীন রক্তপাত হলে এবং/অথবা মলদ্বারের ভিতরের অর্শ যদি বাইরে বের হয়ে আসে এবং তা নিজেই ভেতরে চলে যায় অথবা হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়ঃ
নং বর্ণিত i) এবং iii).
. উপরোক্ত চিকিৎসায় যদি যথেষ্ট উন্নতি না হয় তাহলে-
a) অর্শ মলদ্বারের বাইরে হলেঃ
i) অর্শ ছোট হলে- Local anesthesia ইনজেকশন দিয়ে অর্শ কেটে ফেলা হয়
ii) অর্শ বড় হলে বা তাতে রক্ত জমাট বেধে গেলে-Haemorrhoidectomy অপারেশন করা হয়।
b) অর্শ মলদ্বারের ভিতরে হলেঃ
i) যদি এমন হয় যে মলদ্বারের ভিতরের অর্শ বাইরে বের হয় না বা বের হয় তবে তা নিজেই ভেতরে চলে যায় সেক্ষেত্রে চিকিৎসা-
1. স্ক্লেরোথেরাপি (Sclerotherapy) যাতে অর্শে Chemical irritants (যেমন-Oily phenol) ইনজেকশন দেয়া হয়।
2. ব্যান্ড লাইগেশন যাতে একটি চিমটার সহায়তায় অর্শকে টেনে ধরে রাবার ব্যান্ড পরিয়ে দেয়া হয় (যদি অর্শ বাইরে বের হয়ে আসে কিন্তু নিজে নিজে ভেতরে চলে যায় না বরং হাত দিয়ে তা ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হয় তাহলে সেক্ষেত্রেও কখনও কখনও এই পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়)
3. Infrared Photocoagulation বা Cauterization যাতে একটি electric probe বা laser beam বা infrared light অর্শে প্রয়োগ করা হয়(যদি অর্শ বাইরে বের হয়ে আসে কিন্তু নিজে নিজে ভেতরে চলে যায় না বরং হাত দিয়ে তা ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হয় তাহলে সেক্ষেত্রেও কখনও কখনও এই পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়)
ii) যদি এমন হয় যে মলদ্বারের ভিতরের অর্শ বাইরে বের হয়ে আসে এবং বের হওয়ার পর তা আর ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না বা হাত দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করানো গেলেও পরে তা আবার বের হয়ে আসে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসা-
Surgery বা অপারেশন:
. পুরনো পদ্ধতিতে অর্শ অপারেশন
. Longo বা Stapled Haemorrhoidectomy যাতে অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে মলদ্বার না কেটে অর্শ অপারেশন করা হয়
. ডায়াথারমি পদ্ধতিতে অর্শ অপারেশন।




হোমিওপ্যাথিতে পাইলসের চিকিৎসা
জীবনে কম-বেশি পাইলসের সমস্যায় ভোগেননি এমন ব্যক্তির সংখ্যা অতি সমান্য। পাইলস বলতে আমরা বুঝি মলদ্বারে ব্যথা ফুলে যাওয়া। মলদ্বার দিয়ে রক্ত বাহির হওয়া এবং মলদ্বারের বাইরে কিছু অংশ ঝুলে পড়ে আবার ভেতরে ঢুকে যায় ইত্যাদি। পাইলস বা অর্শ ব্যাধিটি মানুষের জটিল কঠিন সমস্যার মধ্যে অন্যতম। যার চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিতে বিনা অপারেশনে হয়ে থাকে। মলদ্বারের ভিতরে বাহিরের শিরা ষ্কীত চর্ম শক্ত কুঞ্চিত হইয়া ছোট বলির সৃষ্টি হয়। পাইলস দেখিতে আঙ্গুর ফলের থোকার মতো। পাইলস দুই প্রকার : . অন্তবলি  . বহিঃবলি।
মলদ্বারের ভিতরে বলি থাকলে অন্তবলি আর বাহিরে থাকিলে বহিঃবলি বলে।
যে সকল রোগীরা পাইলস্ বা অর্শ রোগের সমস্যায় ভোগেন তাদের সাধারণত কোষ্টকাঠিন্য হতে পারে এবং ডায়রিয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে পেটে গ্যাসও জমা হয়, পায়খানা ক্লিয়ার হয় না, পায়খানার সাথে মিউকাস বা আম যায়। গুরুপাক বা মসলা জাতীয় খাবার যেমন কুরমা-পোলাও, অতিরিক্ত ঝাল জাতীয় খাবার গরুর গোশত খেলেও হজমে গোলমাল দেখা দেয়। সহজে মলত্যাগ হতে চায় না, মলদ্বারে আঙ্গুল দিয়ে মলত্যাগ করতে হয়। যাদেরআইবিএস আছে তাদের এই জাতীয় সমস্যা পাইলস্ হতে পারে। মলত্যাগের সময় কিছু মাংসপি- বের হয়ে আবার ভিতরে ঢুকে যায়
কারণ :- সর্বদা বসে কাজ করা, অতিরিক্ত মশল¬াযুক্ত খাবার খাওয়া, কোষ্ঠবদ্ধতার কারণে জোরে বেগ দিয়ে মলত্যাগ করা, দীর্ঘদিন রাত্র জোগে কাজ করা, পিতা-মাতার থাকলে সন্তানেরও এই রোগ হতে পারে।
লক্ষণ :- মাঝে মাঝে বলিতে চুলকায়, দপদপ করে, টাটানী এবং জ্বালাকর বেদনা। মলদ্বারে বা পায়খানার রাস্তায় কাটা বা কাটি থাকার অনুভুতি মনে হয়। তাছাড়া বেদনা জ্বালা, মলত্যাগের সময় কোথ দেয়া। কোমরে ব্যথা দেখা দিতে পারে, মলত্যাগের সময় বলি হতে রক্তস্রাবও হয়। অর্শ হতে রক্তস্রাব হলে রক্তস্রাবী অর্শ, রক্তস্রাব না হলে অন্ধ বা অস্রাবী অর্শ বলে।
চিকিৎসা :- বিশেষ করে যাদের পাইলস বড় এবং বাইরে বেরিয়ে আসে। এমন অবস্থায় আমরা অপারেশন ছাড়া হোমিও মেডিসিনের সাহায্যে চিকিৎসা দিয়ে থাকি। আর অপারেশন করলে মলদ্বারের চতুরদিকে তিন জায়গায় বেশ কিছু অংশ কাটতে হয়। ফলে অপারেশনের পর প্রচুর ব্যথা হয় এবং মলত্যাগেও অনেক ব্যথা পায়। অনেকের দেখা যায় অনবরত সামান্য রক্ত পুঁজের মত নিঃসরণ হয়। ক্ষতের স্থান শুকাতে দেরি হয়। অপারেশনের পরে মলদ্বার ছোট সঙ্কুচিত হয়ে জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। পায়খানা আটকে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা প্রবল। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় অর্শ রোগীকে আরোগ্য করা সম্ভব। রোগীর শারীরিক, মানসিক দৈহিকসহ সামগ্রীক অবস্থা বিবেচনা করে  ওষুধ নির্বাচন করে তা প্রয়োগ করলে রোগীর সমস্যা বিনা কষ্টে অপারেশন ছাড়াই দূর হবে ইনশাল¬øাহ। 
রোগীর লক্ষণের দিকে বিবেচনা করে এই ওষুধসমূহ সাধারণত ব্যবহার হয়। ইষ্কিউলাস হিপ, নাক্স ভুমিকা, সালফার, হাইড্রাস্টিস, কলিনসোনিয়া, ্যাটান হিয়া ইত্যাদি
পরামর্শ :- পায়খানা ক্লিয়ার বা পরিষ্কার হয় এমন খাবার খাওয়া উচিত। যেমন: শাক, সবজি, আঁশ জাতীয় খাবার, ফল-ফলাদি বেশি খাওয়া, ইসবগুলের ভূসির শরবত পান করা ইত্যাদি। পূর্ণ বয়স্ক লোকের দৈনিক -  ¬øাস পানি পান করা উচিত। সকল প্রকার তৈলাক্ত খাবার গুরু পাক, অতিরিক্তি মসলা জাতীয় খাবার, ভাজা-পোড়া, ঝাল জাতীয় খাদ্য অধিক ঝাল বাসি খাবার পরিত্যাগ করা উচিত। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে এবং মানসিক চাপ কমাতে হবে।

ডা. এস এম আব্দুল আজিজ 
সক্রেটারি, আইডিয়াল ডক্টর্স ফোরাম অব হোমিওপ্যাথি
আল-আজিজ হেলথ সেন্টার, রিসোর্স ফুল পল্টন সিটি ৫১/৫১ পুরানা পল্টন (নীচ তলা)   ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৯১১ ০২০ ৬৬৪, ০১১৯৪ ৩৪ ৫৮ ৪৮




পাইলস বা অর্শ রোগ নিরাময়ে হোমিওপ্যাথি
পাইলস বা অর্শ্ব রোগ নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক ওষধের প্রয়োগ সংকেত নিয়ে আজকের আলোচনা। যে সকল কারণে মলদ্বারের নিকটবর্তী শিরা সমূহে রক্ত চলা-চলের গতিরোধ হয়ে রক্ত সঞ্চিতির ফলে স্ফীতি এবং বড় হয় তাকে পাইলস বা অর্শ বলে। কখনও একটা কখনও বা একাদিক থোকা থোকা আঙ্গুরের ন্যায় দেখতে পাওয়া যায়। অর্শের বলি মলদ্বারের বাইরে থাকলে তাকে বর্হিবলি এবং অভ্যন্তরে থাকলে তাকে অন্তর্বলি বলে।

মানুষের রোগব্যাধির মধ্যে মলদ্বারের রোগই সবচেয়ে বেশি স্বচিকিৎসা এবং হাতুড়ে চিকিৎসা হয়। কিছুটা ভয় বিব্রতকর অনুভূতির জন্য জাতীয় রোগ হলে রোগীরা ডাক্তার দেখাতে চায় না। রোগীরা নিজে নিজে অথবা সস্তায় পাওয়া হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে যান বেশি। বিভিন্ন কুসংস্কার এবং মলদ্বারের সব রোগই পাইলস ভ্রান্ত ধারনার কারনে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন,যা কখনো কখনো ভয়াবহ পরিনতি ডেকে আনে।
পাইলসের প্রকারভেদ :- বলিভেদে পাইলস দুই প্রকার। যথা- বহির্বলি অন্তর্বলি। আবার স্রাব সম্বন্ধীয় পাইলস বা অর্শকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- () যে অর্শ থেকে প্রবল রক্ত ধারা ছুটে তাকে রক্তস্রাবী পাইলস বলে। () যে অর্শে রক্ত স্রাব থাকে না কিন্তু জ্বালা যন্ত্রনা, সুঁচ ফোটান ব্যথা ইত্যাদি কষ্টদায়ক উপসংগ থাকে তাকে অস্রাবী পাইলস বলে। () যে অর্শে কেবল মাত্র আম নির্গত হয় তাকে আম শ্রাবী পাইলস বলে যা বর্ষাকালেও বসন্তকালে প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।
যে রোগীরা পাইলসে ভোগেন তাদের সাধারনত কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া জাতীয় সমস্যা থাকে। অনেক রোগী আছেন যাদের পেটে গ্যাস হয়। পায়খানার সঙ্গে মিউকাস বা আম যায়। পায়খানা করার পর মনে হয় ক্লিয়ার হয়নি। দুধ, পোলাও, ঝাল, গরু বা খাসির মাংস ইত্যাদি খেলে হজমে গোলমাল হয়। টয়লেটে অনেকক্ষণ বসে থাকতে হয়। অনেকে মলদ্বারের ভেতর আঙুল দিয়ে মলত্যাগ করেন। রোগীরা সমস্যাগুলোকে গ্যাস্ট্রিক বা ক্রনিক আমাশয় হিসেবে মনে করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে আমরা বলি ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ডোম বা আইবিএস। জাতীয় রোগীদের দুধ দুগ্ধজাত খাবার, পোলাও, ঝাল, বিরিয়ানি খাওয়া নিষেধ।
পাইলসের উৎপত্তি:- কোষ্ঠবদ্ধতা, উৎকট উদরাময়, যকৃতের বিবৃদ্ধি, অতিরিক্ত মদ্য কিংবা মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার, অলস জীবন যাপন, স্ত্রীলোকের জরায়ুর বিবৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে বস্তি গহ্বরের শিরা সকলে চাপা পড়ে। ফলে রক্তের গতিরুদ্ধ হওয়ার কারণে মলদ্বারে নিকটবর্তী শিরা সকল রক্ত সঞ্চিত হয়ে স্ফীত হয়। এভাবে অর্শের জন্ম হয়। মোট কথা বস্তি গহ্বরের শৈরিক রক্তস্রোত বাধা প্রাপ্ত হলেই পাইলস বা অর্শের উৎপত্তি ঘটে।
এই রোগের লক্ষনাদি :- মলের সঙ্গে রক্তের ছিটে দেখা যায় অথবা সময় সময় এক বারকার পাইখানাতেই প্রায় এক ছটাক হতে আধ পোয়া পর্যন্ত রক্ত বাহির হয়। মল ত্যাগকালে রোগী বিষম কষ্ট পান এবং সরলাস্ত্র মধ্যে জ্বালা, দপ্দপানি চিড়িক মারা মতন যাতনা ভোগ করেন এবং সময় বিশেষে মল নির্গত হয়ে যাবার পরও অনেকক্ষন পর্যন্ত উক্ত যাতনাদি অবস্থান করে। যখন অর্শের বলীগুলো প্রদাহিত হয় অথবা গুহ্যদ্বারের পেশী বা স্ফিংটার দ্বারা নিষ্পেষিত হয়, তখন অতিশয় ক্লেশ বোধ হতে থাকে এবং উপর্যুপরি দুই তিন দিন পর্যন্ত রোগী বিছানা হতে উঠে কোন কাজকর্ম করতে পারেন না। প্রায় সকল সময়েই অর্শ্বরোগের সাথীরূপে কোষ্টবদ্ধতা প্রকাশ পায়। এই রোগ কতকটা পূর্বোক্তমেক্যানিক্যাল অবষ্ট্রাকসান এবং কতকটা মলত্যাগকালীন যন্ত্রনা জন্য আনীত হয়। অর্শরোগ নিবন্ধন, আলস্য বোধ, রুক্ষ্ম মেজাজ, শিরপীড়া, মূর্চ্ছাভাব এবং পরবর্তী অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তস্রাবহেতু রক্তাল্পতা মাথা ঘোরা, উপসর্গ রূপ দেখা দেয়।

খাদ্যাভাসের পরিবর্তন :- আমরা প্রচুর রোগী পাই। যাদের সঠিক খাদ্যাভাসের অভাবে পায়ুপথের বিভিন্ন রোগ হয়। পায়খানার পরিমান বাড়ে এমন খাবার খাওয়া উচিত। যেমন- শাক, সবজি,সালাদ, ফল, ইসুপগুলের ভূষি, গমের ভূষি ইত্যাদি। দৈনিক পরিমিত পানীয় খেতে হবে। একজন পূর্ন বয়স্ক লোকের জন্য - গ্লাস পানি প্রতিদিন পান করতে হবে।

হোমিওপ্যাথিক প্রতিবিধান : পাইলস বা অর্শে হোমিওপ্যাথিক ঔষধের কার্যকারিতা বহু প্রাচীনকাল থেকেই সন্দেহাতীতভাবে দৃঢ়তার সাথে প্রমানিত হয়ে আসছে। কেন্ট রেপার্টরীর প্রয়োগ-সংকেতও পীড়ায় প্রনিধানযোগ্য। অর্শে বহুল প্রচলিত ওষধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিশেু প্রদত্ত হল। . শ্রম বিমুখতা ভোগ বিলাসিতাজনিত অর্শে নাক্স ভমিকা, সালফার, পডোফাইলাম, পালসেটিলা বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, . কোষ্ঠকাঠিন্য হেতু অর্শে ইস্কিউলাস, নাক্স, সালফার,কলিনসোনিয়া কার্বোভেজ . গর্ভাবস্থায় অর্শে- কলিনসোনিয়া, ইস্কুলাস, নাক্স ভমিকা,হ্যামামেলিস, অ্যাসিড মিউর, অ্যালো, . রক্তস্রাবী অর্শে- কলিনসোনিয়া, ইগ্লোসিয়া, ্যাটানহিয়া,হ্যামামেলিস, পিওনিয়া, এব্রোটেনাম, সালফার, ক্যাপসিকাম, ইস্কুইলাস-গ্ল্যাবরা, এসিড নাইট্রিক,তমন কার্ব।
. অস্রাবী অর্শে- আর্সেনিক এল্ব, একোনাইট ন্যাপ, ইস্কুইলাস হিপ, এসিড মিউর, এমন মিউর,প্লান্টেগো, ক্যালিকার্ব।
. আমস্রাবী অর্শে- এন্টিম ক্রুড, হিসার সালফ, লাইকোপডিয়াম সফলতার সাথে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তারপরেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষধ সেবন উচিত নয়।
লেখকঃ ডা. প্রধীর রঞ্জন নাথ


পাইলস সারাতে চান?আমি দিচ্ছি এর মেডিসিন।

বর্ণিত ঔষধগুলো লক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োগ করবেন।
Calendula officinalis : পায়খানার রাস্তা যদি মাত্রাতিরিক্ত ফোলে যায়, ইনফেকশান হয়ে যায়, ঘায়ের মতো হয়ে যায়, ব্যথায় টনটন করতে থাকে, তবে ক্যালেন্ডুলা ঔষধটি নিম্নশক্তিতে (মাদার টিংচার) কিছু পানির সাথে মিশিয়ে তাতে তুলা ভিজিয়ে সেখানে দুচার ঘন্টা পরপর প্রয়োগ করুন। দুচার ঘণ্টা পরপর বা অথবা আরো ঘনঘন প্রয়োগ করুন। যত মারাত্মক ইনফেকশান বা ফোলা-ব্যথা-আলসার হোক না কেন, দেখবেন দুয়েক দিনের মধ্যে সব চলে গেছে। এলোপ্যাথিতে যেমন ডেটল, স্যাভলন, হেক্সিসল ইত্যাদি আছে, তেমনি হোমিওপ্যাথিতে আছে ক্যালেন্ডুলা। তবে ক্যালেন্ডুলার ক্ষমতা তুলনাবিহীন। আক্রান্ত স্থানে লাগানোর পাশাপাশি দশ / বিশ ফোটা করে খেতেও পারেন। অথবা লক্ষণ মতে অন্য কোন ঔষধ খান। পাশাপাশি যে-কোন ধরনের কাটা-ছেড়া-ঘা-ইনফেকশানে ক্যালেন্ডুলার সাহায্য নিতে ভুলবেন না।
* পাইলস থেকে উজ্জল লাল রঙের রক্তপাত হলে Millefolium ৩০ শক্তি ঔষধটি দশ/বিশ মিনিট পরপর খেতে থাকুন যতক্ষণ না রক্তপাত বন্ধ হয়। অন্যদিকে কালো / কালচে রক্তপাত হলে Hamamelis Virginica ঔষধটি দশ/বিশ মিনিট পরপর খেতে থাকুন। পায়খানার রাস্তা থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শরীর দুরবল হয়ে পড়লে, রক্তশূণ্যতা দেখা দিলে China officinalis অথবা Acidum Phosphoricum ঔষধটি খান। পাশাপাশি ভিটামিন জাতীয় অন্যান্য ঔষধগুলিও খেতে পারেন।
          পাইলস চিকিৎসা : প্রচলিত ধারণা জনসচেতনতা

       মলদ্বারে যে রোগই হোক না কেন, সাধারন মানুষ মনে করেসেটি পাইলস/ অর্শ/ গেজ। অনেকের ধারণা নেই, এই রোগের বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসা করলে সম্পূর্ণ নিরাময় হওয়া সম্ভব। অনেকে আবার মরণব্যাধি ক্যান্সার নিয়ে পাইলসের চিকিৎসার জন্য কবিরাজ, হেকিম কিংবা কোন প্রতারকের দারস্থ হচ্ছেন এবং অপচিকিতসার মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছেন। মলদ্বারে স্থায়ী ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন এবং বলছেন পাইলস চিকিৎসা করে ভাল হয়না। আমি বলতে চাই এতি ভ্রান্ত ধারণা, পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করে কোন বিশেষজ্ঞ সার্জন যদি এর চিকিৎসা করেন তবে থেকে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।
      আমাদের সমাজে অসংখ্য রোগী আছে যারা মলদ্বারে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগে থাকেন। অনেক সময় লজ্জায় বলেন না কিংবা অপচিকিৎসার শিকার হনএমনকি মরণব্যাধি কান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কলে ঢলে পড়েন। কখন কখন এমন পর্যায়ে উপস্থিত হন তখন অপারেশনের বিকল্প কিছু থাকে না। কিন্তু সবাই যদি মলদ্বারের চিকিৎসায় পারদর্শী বিশেষজ্ঞ সার্জন দ্বারস্থ হতেন তবে ৮০% ক্ষেত্রে বিনা অপারেশনে এর চিকিৎসা সম্ভব হতো
     মলদ্বারে যেসমস্ত উপসর্গ দেখাদেয় তার মধ্যে উল্লেখ্য মলত্যাগের পর জ্বালাপোড়া, ব্যথা, মলদ্বারে রক্ত পড়া, কখনো ফোটা ফোটা বা ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়া। মলদ্বারের পাশে ছোট ছিদ্র হয়ে পুঁজ পানি পড়া, রক্ত মিশ্রিত আমাশয়, মলত্যাগের পর পূর্ণতা না আসা, কিছু মল থেকে যাওয়া, হঠাৎ রাতে মলদ্বারে ব্যথা করা, সহবাসের সময় ব্যথা করা, সম্পূর্ণ মলদ্বার বের হয়ে আসা কিংবা মলদ্বারের এক পাশে গোশত বেড়ে যাওয়া কিংবা
পায়খানা করার সময় আঙ্গুরের মত একখণ্ড গোশত বের হয়ে আসা ইত্যাদি। যে উপসর্গ থাকুক না কেন , সবাই বলে পাইলস হইছে-আসলে এটা ঠিক নয়।
       মলদ্বারের বিভিন্ন ধরনের রোগ হয় যেমন- আনালফিসার, পাইলস, রেকটাল পলিপ, ফিসটুলা, রেকটাল প্রলাপস, এনাল  ওয়া র্ট, প্রক্তালজিয়া  ফোগাস  ইত্যাদি। রোগবেধে চিকিৎসার ধরন ভিন্ন।
       এখন সময় এসেছে এসব রোগ সম্পর্কে মানুষ কে সচেতন করার, মানুষ রোগ সম্পর্কে সচেতন হলে সঠিক সময়ে একজন বিশেষজ্ঞ সার্জন এর পরামর্শ নিলে রোগ যেমন প্রতিরোধ সম্ভব, তেমনি বিনা অপারেশনে চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।

পাইলস রোগের সঠিক চিকিৎসা হারবালেই সম্ভব

কিভাবে পাইলস হয়ে থাকে:
খাবার থেকেই মূলত পাইলস রোগের উৎপত্তি হয়ে থাকে। আমরা যে ধরনের খাবার খেয়ে থাকি এর একটা অংশ খাবার কখনো কখনো হযম না হয়ে পেটের ভেতরেই জমা হয়।এই বর্জগুলোতে একটা সময়ছোট ছোট বিভিন্ন ধরনের পোকার সৃষ্টি হয়। যার নাম ছোট কৃমি বা গুড়া কৃমি। এই পোকা পেটে থেকে বিভিন্ন ভাবে বের হওয়ার চেষ্টা করে, যখন বের হতে না পারে তখন মল দ্বারের ইঞ্চি বা / ইঞ্চি উপরে বাসা বাঁধে।সেই বাসস্থানের নাম গুড়া কৃমির বাসস্থান। এবং এই বাসস্থানে আস্তে আস্তে গর্ত করে থাকে। এই গর্ত থেকেই পাইলসের সৃষ্টি হয়।
মুক্তির উপায়:
নিজেকে সুস্থ রাখতে হলে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। সুস্থ থাকার জন্য খাওয়া-দাওয়াও বেচে খেতে হবে। পাইলস আক্রান্ত ব্যক্তি গরুর মাংস, ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ, নারিকেল না খাওয়াই ভালো।অবশ্যই তাকে তৈলাক্ত জাতীয় খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়াও ফাস্ট ফুড, বিরানী, খিচুড়ি বর্জন করাই উত্তম।প্রতি বেলা খাবারের সাথে লেবু খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এই ভাবে অন্তত মাস চলতে থাকুন। দেখা যাবে আক্রান্ত ব্যক্তি এই রোগ থেকে আনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠছেন।
আবশ্যক নির্দেশনা: পাইলস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মলমূত্র কখনোই যেন শক্ত না হয় এবং কষা হতে দেওয়া যাবে না। তার জন্য করনীয় হবে সপ্তাহের দিনের মধ্যে দিন আপনি বেছে নিন।একদিন পর পর সকালে খালি পেটে করলার রস, চিরতা ভেজানো পানি এবং ইসুব কুলের ভূসি নিয়মিত খেতে থাকুন। বাদবাকী যেই দিন থাকে সকালে খালি পেটে মৌসুমী ফল খেতে থাকুন। আরোগ্য লাভে যা সহায়ক ভূমিকা রাখবে।


করনীয়ঃ
.ব্যায়ামঃ
ব্যায়ামের মাধ্যমে কোষ্টকাঠিন্য রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আর এর ফলে ফলে পাইলস হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। মাটিতে সোজা শুয়ে পরুন, পা মাটিতে মেশানো থাকবে, পায়ের পাতা ছাদমুখী থাকবে। এবার পেটের পেষী ভিতরে দিকে টেনে ধরে আস্তে আস্তে শ্বাস নিন ডান পা টা আস্তে আস্তে দূরে নিন। যতদূর পারেন করুন, এরপর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পা আগের জায়গায় আনুন। এরপর বাম পা ব্যবহার করে একি ব্যায়াম করুন।

.আয়ুর্বেদিক চিকিতসাঃ
এর জন্য একচিমটি জিরা অথবা বিটলবন দিয়ে দুধের মাঠা খেতে পারেন। এতে ভালো উপকার পাবেন।

.পাইলস এর যত্নঃ
মলদ্বার প্বার্শবর্তী অঞ্চল যথাসম্ভব পরিষ্কার রাখুন। সুতী ঢিলেঢালা অন্তর্বাস পরিধান করুন। অন্তর্বাসের ভিতরে নরম কোন প্যাড ব্যবহার আপনাকে স্বস্তি দেবে। মাঝে মাঝেই sitz bath নিন। এর অর্থ হলো পানিতে কোমর পর্যন্ত ডুবিয়ে বেশ কিছুক্ষন বসে থাকা। ডাক্তারের পরামর্শে পাইলস এর ক্রীম লাগান। পাইলস বরফ প্রয়োগ করতে পারেন মাঝে মাঝে।
উক্ত পরামর্শের মাধ্যমে আপনি পাইলস মুক্তি পাবেন। এছাড়াও আপনি নিকটবর্তী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
পাইলস বা অর্শ্ব রোগ নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক
পাইলস বা অর্শ্ব রোগ নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক ওষধের প্রয়োগ সংকেত নিয়ে আজকের আলোচনা, লিখেছেন - ডা. প্রধীর রঞ্জন নাথ। যে সকল কারণে মলদ্বারের নিকটবর্তী শিরা সমূহে রক্ত চলা-চলের গতিরোধ হয়ে রক্ত সঞ্চিতির ফলে স্ফীতি এবং বড় হয় তাকে পাইলস বা অর্শ বলে। কখনও একটা কখনও বা একাদিক থোকা থোকা আঙ্গুরের ন্যায় দেখতে পাওয়া যায়। অর্শের বলি মলদ্বারের বাইরে থাকলে তাকে বর্হিবলি এবং অভ্যন্তরে থাকলে তাকে অন্তর্বলি বলে।
মানুষের রোগব্যাধির মধ্যে মলদ্বারের রোগই সবচেয়ে বেশি স্বচিকিৎসা এবং হাতুড়ে চিকিৎসা হয়। কিছুটা ভয় বিব্রতকর অনুভূতির জন্য জাতীয় রোগ হলে রোগীরা ডাক্তার দেখাতে চায় না। রোগীরা নিজে নিজে অথবা সস্তায় পাওয়া হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে যান বেশি। বিভিন্ন কুসংস্কার এবং মলদ্বারের সব রোগই পাইলস ভ্রান্ত ধারনার কারনে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন,যা কখনো কখনো ভয়াবহ পরিনতি ডেকে আনে।

পাইলসের প্রকারভেদ :-

বলিভেদে পাইলস দুই প্রকার। যথা- বহির্বলি অন্তর্বলি। আবার স্রাব সম্বন্ধীয় পাইলস বা অর্শকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- যে অর্শ থেকে প্রবল রক্ত ধারা ছুটে তাকে রক্তস্রাবী পাইলস বলে।
যে অর্শে রক্ত স্রাব থাকে না কিন্তু জ্বালা যন্ত্রনা, সুঁচ ফোটান ব্যথা ইত্যাদি কষ্টদায়ক উপসংগ থাকে তাকে অস্রাবী পাইলস বলে।
যে অর্শে কেবল মাত্র আম নির্গত হয় তাকে আম শ্রাবী পাইলস বলে যা বর্ষাকালেও বসন্তকালে প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।
যে রোগীরা পাইলসে ভোগেন তাদের সাধারনত কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া জাতীয় সমস্যা থাকে। অনেক রোগী আছেন যাদের পেটে গ্যাস হয়। পায়খানার সঙ্গে মিউকাস বা আম যায়। পায়খানা করার পর মনে হয় ক্লিয়ার হয়নি। দুধ, পোলাও, ঝাল, গরু বা খাসির মাংস ইত্যাদি খেলে হজমে গোলমাল হয়। টয়লেটে অনেকক্ষণ বসে থাকতে হয়। অনেকে মলদ্বারের ভেতর আঙুল দিয়ে মলত্যাগ করেন। রোগীরা সমস্যাগুলোকে গ্যাস্ট্রিক বা ক্রনিক আমাশয় হিসেবে মনে করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে আমরা বলি ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ডোম বা আইবিএস। জাতীয় রোগীদের দুধ দুগ্ধজাত খাবার, পোলাও, ঝাল, বিরিয়ানি খাওয়া নিষেধ।
পাইলসের উৎপত্তি :-
কোষ্ঠবদ্ধতা, উৎকট উদরাময়, যকৃতের বিবৃদ্ধি, অতিরিক্ত মদ্য কিংবা মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার, অলস জীবন যাপন, স্ত্রীলোকের জরায়ুর বিবৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে বস্তি গহ্বরের শিরা সকলে চাপা পড়ে। ফলে রক্তের গতিরুদ্ধ হওয়ার কারণে মলদ্বারে নিকটবর্তী শিরা সকল রক্ত সঞ্চিত হয়ে স্ফীত হয়। এভাবে অর্শের জন্ম হয়। মোট কথা বস্তি গহ্বরের শৈরিক রক্তস্রোত বাধা প্রাপ্ত হলেই পাইলস বা অর্শের উৎপত্তি ঘটে।

এই রোগের লক্ষনাদি :-

 মলের সঙ্গে রক্তের ছিটে দেখা যায় অথবা সময় সময় এক বারকার পাইখানাতেই প্রায় এক ছটাক হতে আধ পোয়া পর্যন্ত রক্ত বাহির হয়। মল ত্যাগকালে রোগী বিষম কষ্ট পান এবং সরলাস্ত্র মধ্যে জ্বালা, দপ্দপানি চিড়িক মারা মতন যাতনা ভোগ করেন এবং সময় বিশেষে মল নির্গত হয়ে যাবার পরও অনেকক্ষন পর্যন্ত উক্ত যাতনাদি অবস্থান করে। যখন অর্শের বলীগুলো প্রদাহিত হয় অথবা গুহ্যদ্বারের পেশী বা স্ফিংটার দ্বারা নিষ্পেষিত হয়, তখন অতিশয় ক্লেশ বোধ হতে থাকে এবং উপর্যুপরি দুই তিন দিন পর্যন্ত রোগী বিছানা হতে উঠে কোন কাজকর্ম করতে পারেন না। প্রায় সকল সময়েই অর্শ্বরোগের সাথীরূপে কোষ্টবদ্ধতা প্রকাশ পায়। এই রোগ কতকটা পূর্বোক্ত "মেক্যানিক্যাল অবষ্ট্রাকসান" এবং কতকটা মলত্যাগকালীন যন্ত্রনা জন্য আনীত হয়। অর্শরোগ নিবন্ধন, আলস্য বোধ, রুক্ষ্ম মেজাজ, শিরপীড়া, মূর্চ্ছাভাব এবং পরবর্তী অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তস্রাবহেতু রক্তাল্পতা মাথা ঘোরা, উপসর্গ রূপ দেখা দেয়।

খাদ্যাভাসের পরিবর্তন :-
আমরা প্রচুর রোগী পাই। যাদের সঠিক খাদ্যাভাসের অভাবে পায়ুপথের বিভিন্ন রোগ হয়। পায়খানার পরিমান বাড়ে এমন খাবার খাওয়া উচিত। যেমন- শাক, সবজি,সালাদ, ফল, ইসুপগুলের ভূষি, গমের ভূষি ইত্যাদি। দৈনিক পরিমিত পানীয় খেতে হবে। একজন পূর্ন বয়স্ক লোকের জন্য - গ্লাস পানি প্রতিদিন পান করতে হবে।
হোমিওপ্যাথিক প্রতিবিধান :-
পাইলস বা অর্শে হোমিওপ্যাথিক ঔষধের কার্যকারিতা বহু প্রাচীনকাল থেকেই সন্দেহাতীতভাবে দৃঢ়তার সাথে প্রমানিত হয়ে আসছে। কেন্ট রেপার্টরীর প্রয়োগ-সংকেতও পীড়ায় প্রনিধানযোগ্য। অর্শে বহুল প্রচলিত ওষধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিশেু প্রদত্ত হল।
শ্রম বিমুখতা ভোগ বিলাসিতাজনিত অর্শে নাক্স ভমিকা, সালফার, পডোফাইলাম, পালসেটিলা বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, কোষ্ঠকাঠিন্য হেতু অর্শে ইস্কিউলাস, নাক্স, সালফার,কলিনসোনিয়া কার্বোভেজ
গর্ভাবস্থায় অর্শে- কলিনসোনিয়া, ইস্কুলাস, নাক্স ভমিকা,হ্যামামেলিস, অ্যাসিড মিউর, অ্যালো, রক্তস্রাবী অর্শে- কলিনসোনিয়া, ইগ্লোসিয়া, ্যাটানহিয়া,হ্যামামেলিস, পিওনিয়া, এব্রোটেনাম, সালফার, ক্যাপসিকাম, ইস্কুইলাস-গ্ল্যাবরা, এসিড নাইট্রিক,তমন কার্ব।অস্রাবী অর্শে- আর্সেনিক এল্ব, একোনাইট ন্যাপ, ইস্কুইলাস হিপ, এসিড মিউর, এমন মিউর,প্লান্টেগো, ক্যালিকার্ব।আমস্রাবী অর্শে- এন্টিম ক্রুড, হিসার সালফ, লাইকোপডিয়াম সফলতার সাথে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বি. দ্র.  চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষধ সেবন উচিত নয়।

No comments:

Post a Comment